ফিচার গাইড

Bonik AI দিয়ে নিজের ওয়েবসাইট বানান ১ মিনিটে — ঘুমিয়ে থাকলেও অর্ডার আসবে

Bonik AI টিম প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ৮ মিনিট পড়া

রাত সাড়ে এগারোটা। ফোনে টুং করে একটা শব্দ — নতুন অর্ডার। আপনি তখন হয়তো ভাত খাচ্ছেন, কিংবা শুয়ে পড়েছেন।

কাস্টমার নিজেই আপনার ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্ট পছন্দ করেছে। নিজের নাম, ফোন, ঠিকানা লিখেছে। অর্ডার কনফার্ম করেছে। আপনাকে একটা মেসেজেরও উত্তর দিতে হয়নি।

এটাই Bonik AI Website Builder — বাংলাদেশি ফেসবুক সেলারদের জন্য বানানো ওয়েবসাইট বিল্ডার, যেটা দিয়ে অ্যাপ থেকেই এক মিনিটে নিজের ওয়েবসাইট দাঁড় করানো যায়। ডোমেইন কিনতে হয় না, হোস্টিং লাগে না, ডেভেলপারের পেছনে ঘুরতে হয় না। আর অর্ডার আসার পর ফ্রড চেক, ইনভয়েস, কুরিয়ার বুকিং, কাস্টমারকে ট্র্যাকিং পাঠানো, মাস শেষের হিসাব — বেশিরভাগ কাজই অ্যাপ নিজে সামলে দেয়।

নামটা যে যেভাবেই খোঁজেন — কেউ লেখেন Bonik AI seller website, কেউ Bonik AI landing page builder — জিনিসটা আসলে একটাই: আপনার নিজের একটা ওয়েবসাইট, যেটা আপনি ঘুমালেও জেগে থাকে। নিচে পুরোটা খুলে বলছি — সব তথ্য অ্যাপের আসল কোড দেখে যাচাই করা, ২৯ আগস্ট ২০২৬।

মেসেঞ্জারে দিনে কত ঘণ্টা চলে যায়?

ফেসবুক পেজে বিক্রি করেন মানেই দিনের বড় একটা অংশ মেসেঞ্জারেই কাটে। হিসাব করে দেখুন। "দাম কত?" — উত্তর দিলেন। "সাইজ আছে?" — আবার লিখলেন। "ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ?" — আবার।

দিনে ২৫ জন কাস্টমার মানে ২৫ বার একই কথা। দেড় মিনিট করে ধরলেও ঘণ্টাখানেক শেষ, শুধু টাইপ করতেই।

আর যে কাস্টমার একসাথে দুইটা প্রোডাক্ট নিতে চায়? তাকে বলতে হয় "দুইবার অর্ডার দিন"। অনেকে এই ঝামেলায় দ্বিতীয়টা আর নেয়ই না।

নিজের একটা ওয়েবসাইট থাকলে এই পুরো কথোপকথনটাই আর লাগে না। কাস্টমার নিজে দেখে, নিজে বেছে নেয়, একবারেই অর্ডার করে।

এক মিনিটে ওয়েবসাইট তৈরি — চারটা ধাপ

শুরু করতে পারবেন তিন জায়গা থেকে — যেটা হাতের কাছে পড়ে:

  • হোম স্ক্রিনের টুলের লিস্টে — "নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করুন"
  • নিচের "ওয়েবসাইট" ট্যাবে
  • আরও মেনুর কানেকশন অংশে — সেই একই "নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করুন"

যেটা দিয়েই যান, পৌঁছাবেন একই জায়গায়। তারপর চারটা ধাপ:

  1. ওয়েবসাইট তৈরি করুন — ঠিকানা হবে bonikai.shop/আপনার-নাম। নিজের লোগো বসান, একটা WhatsApp বাটনও যোগ হয়ে যাবে। একটা কথা মনে রাখবেন — ইউজারনেমটা একবার বসালে আর বদলানো যায় না, তাই ভেবেচিন্তে দিন।
  2. প্রোডাক্ট যোগ করুন — ছবি, দাম, ডেলিভারি চার্জ। প্রতিটায় ৩০ সেকেন্ডের মতো লাগে।
  3. লিংক শেয়ার করুন — মেসেঞ্জার, WhatsApp, ফেসবুক অ্যাড, পেজের বায়ো — যেখানে খুশি।
  4. অর্ডার আসতে থাকবে — সরাসরি আপনার অ্যাপে।

প্রথম প্রোডাক্ট আপলোড করতে করতেই ওয়েবসাইট লাইভ। লিংকটা পেজের বায়োতে বসিয়ে দিলে আজ রাত থেকেই অর্ডার আসা শুরু হতে পারে।

কিন্তু আসল ব্যাপারটা শুরু হয় অর্ডার আসার পর।

অর্ডার এলো — এবার অ্যাপ কী করে

সবার আগে ফোনে নোটিফিকেশন। কাস্টমার অর্ডারের বাটনে চাপ দেওয়ার সাথে সাথেই।

এই সাথে সাথে জেনে যাওয়াটা কেন এত দরকারি, সেটা পুরনো সেলাররা হাড়ে হাড়ে বোঝেন। মেসেঞ্জারে কাস্টমার নক দিল, আপনি তখন কাজে ব্যস্ত, ঘণ্টাখানেক পর মেসেজটা চোখে পড়ল — ততক্ষণে সে অন্য পেজ থেকে জিনিসটা নিয়ে নিয়েছে। কেনার আগ্রহটা যতক্ষণ গরম থাকে, ততক্ষণেই ধরতে হয়।

এখানে নোটিফিকেশন পাওয়ার সাথে সাথেই কাস্টমারকে ফোন দিয়ে অর্ডারটা কনফার্ম করে নিতে পারেন। কাস্টমারও খুশি — অর্ডার দেওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে দোকান থেকে ফোন এলে বিশ্বাসটা অন্যরকম জায়গায় চলে যায়।

অর্ডারটা অ্যাপে "নতুন" হয়ে জমা থাকে, যতক্ষণ না আপনি হাত দিচ্ছেন। কাস্টমার কার্টে তিনটা প্রোডাক্ট নিলেও সব একটা অর্ডারেই আসে।

আর প্রতিটা অর্ডারের নিচেই চারটা বাটন বসানো — অর্ডার খোলারও দরকার নেই:

  • কল — এক ট্যাপেই কাস্টমারকে ফোন দিতে পারবেন, নম্বর কপি করা লাগে না।
  • WhatsApp — এক ট্যাপে সরাসরি ওই কাস্টমারের চ্যাট খুলে যায়।
  • ফ্রড — এই নম্বরে আগে কতগুলো পার্সেল ডেলিভারি হয়েছে, কতগুলো ফেরত গেছে — সব দেখা যায়। ডেটাটা আসে হাজারো Bonik AI সেলারের অর্ডারের আসল রেজাল্ট থেকে। বুকিং দেওয়ার আগে ৫ সেকেন্ডের এই চেকটাই একটা ফেক অর্ডারের পুরো ডেলিভারি চার্জ বাঁচিয়ে দিতে পারে (বিস্তারিত গাইড এখানে)।
  • ইনভয়েস — PDF ইনভয়েস তৈরি হয়ে যায়, সাথে সাথেই কাস্টমারকে পাঠানো যায়।

নিচে আরেকটা বাটন — "কুরিয়ারে পাঠান"। Steadfast, Pathao বা RedX-এর যেটা কানেক্ট করা আছে, এক ট্যাপেই বুকিং হয়ে যায়। কুরিয়ারের পোর্টালে গিয়ে নাম-ঠিকানা কপি-পেস্ট করার দিন শেষ।

বুকিং হয়ে গেলে আরেকটা বাটন আসে। চাপলেই কাস্টমারের WhatsApp খুলে যায়, মেসেজটা আগে থেকেই লেখা — "আপনার অর্ডার XXX ট্র্যাক করুন 👉 [লিংক]"। আপনি শুধু Send চাপবেন। কাস্টমার নিজেই এখন পার্সেল কোথায় আছে দেখতে পারবে, বারবার "ভাই পার্সেল কই?" জিজ্ঞেস করবে না।

আর আপনাকেও কুরিয়ারের ওয়েবসাইটে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে না। পার্সেল ডেলিভারি হলো, ক্যানসেল হলো, নাকি ফেরত এলো — স্ট্যাটাস নিজে থেকেই আপডেট হতে থাকে। অ্যাপ খুললেই সর্বশেষ অবস্থা।

প্রতিটা অর্ডারই আপনার সম্পদ হয়ে জমা থাকে

এই অংশটা অনেকে খেয়াল করেন না, অথচ লম্বা সময়ে এটাই সবচেয়ে দামি।

যাকেই কুরিয়ারে পার্সেল পাঠান, সে নিজে থেকেই "আমার কাস্টমার" লিস্টে জমা হয়ে যায় (হোম স্ক্রিনের "কাস্টমার" টাইলে পাবেন)। ওয়েবসাইট, ফেসবুক, WooCommerce — যেখান থেকেই অর্ডার আসুক, সবাই এক লিস্টে।

প্রতিটা নামের পাশে দেখবেন — কতগুলো অর্ডার করেছে, কতগুলো ডেলিভারি নিয়েছে, কতগুলো ফেরত দিয়েছে, শেষ কবে কিনেছে। সাথে কল আর WhatsApp বাটন তো আছেই।

এবার ভাবুন। ছয় মাস পর আপনার কাছে ৩০০ জন কাস্টমারের লিস্ট — এরা সবাই আগে আপনার কাছ থেকে কিনেছে, টাকা দিয়েছে, পার্সেল রিসিভ করেছে। নতুন একটা প্রোডাক্ট আনলেন। এদের WhatsApp-এ নতুন প্রোডাক্টের ছবিটা পাঠিয়ে দিলেন।

বুস্টের এক টাকাও খরচ হলো না। অথচ যাদের কাছে পাঠালেন, তারা নতুন কোনো অচেনা মানুষ না — আগেই একবার আপনার কাছ থেকে কিনে বিশ্বাস তৈরি করেছে।

চাইলে পুরো লিস্টটা CSV ফাইলে বের করে নেওয়া যায় — নাম, ফোন, ঠিকানা, মোট অর্ডার, মোট টাকাসহ। শেষ ৭ দিন, ৩০ দিন, বা নিজের পছন্দমতো তারিখ বেছে নিন; ফাইলটা Excel বা Google Sheets-এ খুলবে।

প্রোডাক্ট সাজানোর সময় যা যা পাবেন

প্রতিটা প্রোডাক্টে ৪টা পর্যন্ত ছবি — সব প্ল্যানেই সমান, কোনো প্ল্যানে কম না। সামনে, পেছনে, ডিটেইল, পরে থাকা অবস্থায় — কাস্টমার যত ভালো দেখে, তত কম প্রশ্ন করে।

কালার আর সাইজ অপশন দিতে পারবেন। মজার ব্যাপার — প্রতিটা কালারের সাথে আলাদা ছবি ট্যাগ করা যায়। কাস্টমার লাল রঙ বাছলে লাল প্রোডাক্টের ছবিটাই দেখবে।

রেগুলার দামের পাশে অফার দাম বসিয়ে দিন, অ্যাপ নিজেই "% ছাড়" ব্যাজ লাগিয়ে দেবে। ডেলিভারি চার্জ ঢাকার ভিতরে আর বাইরে আলাদা করে বসানো যায় — বেশিরভাগ সেলার ভিতরে ৳৬০-৮০, বাইরে ৳১১০-১৫০ নেন।

আর প্রোডাক্টের বিবরণে ম্যাটেরিয়াল, সাইজ চার্ট, বক্সে কী কী থাকছে — সব লিখে দিতে পারেন। যত পরিষ্কার লেখা, তত কম "ভাই এটার কাপড় কেমন?" মেসেজ।

প্রতিটা প্রোডাক্টই একেকটা সেলস পেজ

ব্যাপারটা শুধু গোটা ওয়েবসাইটের একটা লিংক পাওয়া না। যত প্রোডাক্ট যোগ করবেন, প্রতিটা পাবে নিজের আলাদা একটা লিংক।

ওই এক লিংকেই কাস্টমার সবকিছু পেয়ে যায় — চারটা ছবি, পণ্যের বিবরণ, দাম, ছাড় থাকলে ছাড়ের ব্যাজ, কালার-সাইজ বেছে নেওয়ার অপশন, ডেলিভারি চার্জ, আর নিচেই অর্ডার ফর্ম। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অর্ডার দিয়ে দেয়, ব্যস।

আর কোন পেজটা আসলে কাজ করছে, সেটাও চোখের সামনে থাকে। প্রতিটা প্রোডাক্টের পাশে লেখা থাকে কতজন দেখল আর কয়টা অর্ডার এলো। ১০০ জন দেখে ২টা অর্ডার, নাকি ৩০ জন দেখে ৮টা — এই পার্থক্যটা জানা থাকলে বুঝবেন কোন প্রোডাক্টের পেছনে বুস্টের টাকা ঢালা উচিত, কোনটার পেছনে না।

এই যে প্রতিটা প্রোডাক্টের নিজস্ব পেজ — এটারই একটা গালভরা নাম আছে: ল্যান্ডিং পেজ। শব্দটা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, পরের অংশেই খুলে বলছি।

ল্যান্ডিং পেজ আসলে কী — সহজ ভাষায়

ল্যান্ডিং পেজ মানে — অ্যাডে ক্লিক করে কাস্টমার যে পেজে এসে "নামে" (land করে), সেই পেজ। একটাই প্রোডাক্ট, একটাই কাজ: অর্ডার করা। এদিক-ওদিক যাওয়ার মেনু নেই, ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ নেই — কাস্টমারের মনোযোগ সরার জায়গাই নেই।

আর ঠিক এই কারণেই ল্যান্ডিং পেজে অর্ডারের হার বেশি। ভেবে দেখুন — অ্যাড থেকে কাউকে ইনবক্সে পাঠালে সে আপনার রিপ্লাইয়ের অপেক্ষায় বসে থাকে (আর অপেক্ষা করতে করতে অন্য পেজে চলে যায়)। পুরো ওয়েবসাইটে পাঠালে বিশটা প্রোডাক্টের ভিড়ে হারিয়ে যায়। কিন্তু ল্যান্ডিং পেজে পাঠালে? ছবি দেখল, ভিডিও দেখল, দাম দেখল, ফর্ম পূরণ করল — অর্ডার শেষ, তিন মিনিটে।

বাজারে আলাদা করে landing page builder ভাড়া পাওয়া যায় — মাসে হাজার-বারোশো টাকা, তাও ইংরেজি টুল, শেখার ঝক্কি আলাদা। Bonik AI-তে প্রোডাক্ট যোগ করলেই তার ল্যান্ডিং পেজ রেডি — বাংলায়, ক্যাশ অন ডেলিভারির অর্ডার ফর্মসহ, এক টাকাও বাড়তি খরচ ছাড়া। ফেসবুক অ্যাডে লিংকটা বসিয়ে দিন, ব্যস।

নতুন — প্রোডাক্ট পেজে এবার ইউটিউব ভিডিও

নতুন ভার্সনে প্রোডাক্ট যোগ বা এডিট করার সময় একটা বাড়তি ঘর পাবেন — "ইউটিউব ভিডিও লিংক (অপশনাল)"। প্রোডাক্টের ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে লিংকটা বসিয়ে দিন, ব্যস — ভিডিওটা সরাসরি ওই প্রোডাক্টের পেজে চলবে।

ছবিতে যা বোঝানো যায় না, ভিডিওতে সেটাই সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় — কাপড়ের ফলস কেমন, গ্যাজেটটা আসলে কীভাবে কাজ করে, পরলে কেমন দেখায়। কাস্টমার ভিডিও দেখে অর্ডার করলে ভরসাটা আগেই তৈরি হয়ে যায়, প্রশ্নও কমে, রিটার্নও কমে।

সবচেয়ে সুবিধার দিকটা — ফেসবুকে যে ভিডিওটা এমনিতেই বুস্ট করছেন, সেটাই ইউটিউবে তুলে লিংকটা বসিয়ে দিলেই হলো। বাড়তি কোনো খরচ নেই, ভিডিও হোস্টিংয়ের ঝামেলাও নেই।

বুস্টের টাকাটা কোথায় যাচ্ছে, জানেন তো?

অনেক সেলার হাজার টাকা বুস্ট করে দুই-একটা অর্ডার পান, তারপর ভাবেন "ফেসবুক অ্যাড কাজ করে না"।

আসলে সমস্যাটা অন্য জায়গায়। ফেসবুক জানেই না আপনার কাছ থেকে কে কিনছে। তাই সে এলোমেলো মানুষকে বিজ্ঞাপন দেখায় — বাজেট শেষ হয়, শেখা হয় না কিছুই। পরের ক্যাম্পেইনেও একই অবস্থা।

এখানেই Facebook Pixel-এর কাজ। ওয়েবসাইট সেটিংসে গিয়ে একবার Pixel ID বসিয়ে দিন (Meta Events Manager → Data Sources-এ পাবেন, ১৫-১৬ ডিজিটের একটা নাম্বার)। ব্যস — আপনার ওয়েবসাইট আর প্রতিটা প্রোডাক্ট লিংকে সেটা নিজে থেকেই বসে যাবে। একবারের কাজ, সারাজীবনের জন্য।

এরপর দুইটা জিনিস বদলে যায়।

এক — যারা আপনার সাইটে এসেছিল, প্রোডাক্ট দেখেছিল, কিন্তু কেনেনি, তাদের আলাদা করে আবার বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। এরা আগ্রহ দেখিয়েছে, শুধু সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এদের কেনার সম্ভাবনা নতুন কারো চেয়ে অনেক বেশি।

দুই — ফেসবুক ধীরে ধীরে শিখে যাবে আপনার আসল ক্রেতা কারা। শুধু যারা ক্লিক করে তারা না, যারা সত্যিই টাকা দেয় তারা। তখন "Purchase"-এর জন্য অপটিমাইজ করা বুস্টে একই বাজেটে বেশি অর্ডার আসতে থাকবে।

মাস শেষে খাতা মেলাতে বসতে হবে না

মাসের শেষ দিন। এতগুলো অর্ডার গেল, কিন্তু আসলে কত বিক্রি হলো? কয়টা ফেরত এলো? গত মাসের চেয়ে ভালো গেল নাকি খারাপ?

হোম স্ক্রিন থেকে "হিসাব-নিকাশ"-এ গেলেই সব সামনে। ওয়েবসাইটের প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের টাকা নিজে থেকেই যোগ হয়ে বসে আছে — খাতায় টুকতে হয়নি একবারও।

দিন, মাস, বছর — তিনভাবে দেখা যায়। মাস মোডে সেই মাসের ডেলিভারি, খরচ, প্রফিট, আর গত মাসের তুলনায় কত শতাংশ বাড়ল বা কমল। বছর মোডে বারো মাসের একটা পুরো টেবিল। কয়টা অর্ডার এখনো রাস্তায়, কয়টা ডেলিভারি হয়েছে, কয়টা ক্যানসেল, কয়টা ফেরত — প্রতিটার সংখ্যা আর টাকার অংক আলাদা করে।

একটা কথা সৎভাবে বলে রাখি — এখানে "প্রফিট" মানে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে যত টাকা এসেছে সেটা। কুরিয়ার চার্জ বা প্রোডাক্টের কেনা দাম নিজে থেকে বাদ যায় না। সেগুলো ধরতে চাইলে "+ যোগ করুন" দিয়ে খরচ হিসেবে বসিয়ে দিতে হবে। তবে বিক্রি কত, ফেরত কত, পেন্ডিং কত — এই মূল ছবিটা পুরোপুরি নিজে থেকেই তৈরি হয়ে থাকে।

কোন প্ল্যানে কতটুকু

প্ল্যানটোটাল প্রোডাক্টএক ট্যাপে → কুরিয়ার/দিনম্যানুয়াল কুরিয়ার অর্ডার
Starter১০০টি২০টিআনলিমিটেড
Pro২০০টি২০টিআনলিমিটেড
Boss৪০০টি৩০টিআনলিমিটেড
Elite৬০০টি৬০টিআনলিমিটেড
Max১,০০০টি১২০টিআনলিমিটেড

সাইট থেকে অর্ডার নেওয়া সব প্ল্যানেই আনলিমিটেড। কুরিয়ারে পাঠানোও আসলে আনলিমিটেড — উপরের সংখ্যাটা শুধু এক ট্যাপে অটো বুকিংয়ের দৈনিক লিমিট। দিনের এক-ট্যাপ কোটা শেষ হয়ে গেলেও আটকে থাকবেন না — অর্ডারের সব তথ্য এক ট্যাপে কপি করে ম্যানুয়াল অর্ডার দিয়ে পাঠিয়ে দিন, সেখানে কোনো দৈনিক লিমিট নেই। ছবিও সব প্ল্যানে ৪টা করে। শুরু হয় Starter (৳৪৯৯/মাস) থেকে, আলাদা কোনো ফ্রি প্ল্যান নেই — সব Pricing পেজে।

শেষ কথা

নিজে থেকে একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে গেলে — ডোমেইন কিনে, হোস্টিং নিয়ে, ডেভেলপার ধরে — শুরুতেই কয়েক হাজার টাকা আর সপ্তাহখানেক সময়। তারপরও অর্ডার এলে ইনভয়েস, ফ্রড চেক, কুরিয়ার, হিসাব — সবই হাতে করতে হবে।

Bonik AI-তে ওয়েবসাইট তৈরি হয় এক মিনিটে। আর কোনো প্ল্যানেই অর্ডার থেকে % কমিশন কাটা হয় না — শুধু একটা ফ্ল্যাট মাসিক ফি। যত বেশি বিক্রি করবেন, লাভের ভাগটা তত বেশি আপনার কাছেই থাকবে। (বাজারের কিছু বিকল্পে প্রতি অর্ডারে কমিশন কাটে, ফলে বিক্রি বাড়লে খরচও বাড়তে থাকে — বিস্তারিত তুলনা এখানে।)

বাকিটা অ্যাপ সামলাবে — ফ্রড চেক থেকে কুরিয়ার, কাস্টমারের ট্র্যাকিং লিংক থেকে মাস শেষের হিসাব পর্যন্ত।

তাই আজই পাঁচটা মিনিট বের করুন। অ্যাপটা খুলুন, প্রথম প্রোডাক্টটা তুলে ফেলুন, লিংকটা পেজের বায়োতে বসিয়ে দিন। তারপর কোনো এক রাতে ফোনে টুং করে সেই শব্দটা হবে — আর আপনি হাসতে হাসতে বুঝবেন, দোকানটা এখন আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও চলে।

সাধারণ প্রশ্ন

Bonik AI ওয়েবসাইট বানাতে ডোমেইন বা হোস্টিং কিনতে হয়?

না। Starter প্ল্যান (৳৪৯৯/মাস) থেকেই bonikai.shop/আপনার-নাম ঠিকানায় নিজের ওয়েবসাইট পাওয়া যায় — আলাদা ডোমেইন বা হোস্টিং কেনার দরকার নেই।

ওয়েবসাইটে অর্ডার এলে সাথে সাথে জানতে পারব?

হ্যাঁ। কাস্টমার অর্ডার করার সাথে সাথেই আপনার ফোনে নোটিফিকেশন চলে আসে, ট্যাপ করলে সরাসরি ওই অর্ডারটাই খুলে যায়। তখনই কাস্টমারকে ফোন দিয়ে অর্ডার কনফার্ম করে নিতে পারেন — মেসেঞ্জারের মতো দেরি হয়ে কাস্টমার হাতছাড়া হওয়ার ভয় থাকে না।

অর্ডার এলে ফ্রড চেক কি নিজে থেকেই হয়?

কাস্টমারের নম্বরটা Bonik AI-এর নিজস্ব ডেটাবেজে আগে থেকেই থাকে — অর্ডার কার্ডের "ফ্রড" বাটনে এক ট্যাপ করলেই আগের ডেলিভারি, ক্যানসেল আর রিটার্নের রেকর্ড দেখা যায়। আলাদা কোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে নম্বর কপি-পেস্ট করতে হয় না।

কুরিয়ারে পাঠানোর পর ডেলিভারি স্ট্যাটাস কীভাবে জানব?

নিজে থেকেই আপডেট হতে থাকে। বুকিংয়ের পর অ্যাপ কুরিয়ার থেকে স্ট্যাটাস (ডেলিভার্ড, ক্যানসেল, রিটার্ন) টেনে এনে দেখায় — কুরিয়ারের সাইটে গিয়ে খোঁজ নিতে হয় না।

কাস্টমারকে ট্র্যাকিং লিংক পাঠাব কীভাবে?

বুকিং হয়ে গেলে একটা বাটনে চাপলেই কাস্টমারের WhatsApp খুলে যায়, ট্র্যাকিং লিংকসহ মেসেজটা আগে থেকেই লেখা থাকে। আপনি শুধু Send চাপবেন।

ফেসবুক অ্যাডের ল্যান্ডিং পেজ হিসেবে এটা ব্যবহার করা যাবে?

যাবে। প্রতিটা প্রোডাক্ট নিজের আলাদা একটা লিংক পায় — সেখানে ছবি, বিবরণ, দাম, ডেলিভারি চার্জ আর অর্ডার ফর্ম সবই থাকে, অর্থাৎ একটা পূর্ণাঙ্গ ল্যান্ডিং পেজ। অ্যাডে সরাসরি ওই লিংক দিলেই চলে, আলাদা ল্যান্ডিং পেজ বিল্ডার লাগে না। Facebook Pixel বসানো থাকলে ওই পেজেও ভিজিট আর পারচেজ ট্র্যাক হয়।

প্রোডাক্ট পেজে ভিডিও দেখানো যায়?

যায়। নতুন ভার্সনে প্রোডাক্ট যোগ বা এডিট করার সময় ইউটিউব ভিডিওর লিংক বসিয়ে দিলে ভিডিওটা ওই প্রোডাক্টের পেজে চলবে। ছবিতে যা বোঝানো যায় না, ভিডিওতে দেখালে কাস্টমারের ভরসা বাড়ে, প্রশ্ন আর রিটার্ন দুটোই কমে।

দিনে কয়টা অর্ডার কুরিয়ারে পাঠানো যায়?

কুরিয়ারে পাঠানো আনলিমিটেড — লিমিট শুধু এক ট্যাপে অটো বুকিংয়ে (Starter ও Pro-তে দিনে ২০টা, Boss ৩০টা, Elite ৬০টা, Max ১২০টা)। এক-ট্যাপ কোটা শেষ হয়ে গেলে অর্ডারের তথ্য এক ট্যাপে কপি করে ম্যানুয়াল অর্ডার দিয়ে পাঠাতে পারবেন — সেখানে কোনো দৈনিক লিমিট নেই।

কোন প্রোডাক্টে বেশি অর্ডার আসছে, সেটা বোঝা যায়?

হ্যাঁ। প্রতিটা প্রোডাক্ট লিংকের পাশে কতজন দেখেছে (ভিউ) আর কয়টা অর্ডার এসেছে — দুটোই আলাদা করে দেখা যায়। এতে বোঝা যায় কোন সেলস পেজটা আসলে বিক্রি আনছে, আর কোনটার পেছনে বুস্ট করে লাভ নেই।

পুরনো কাস্টমারদের নতুন প্রোডাক্টের কথা জানানো যায়?

হ্যাঁ। "আমার কাস্টমার" লিস্টে আগের সব ক্রেতার নম্বর জমা থাকে, প্রতিটার পাশেই কল আর WhatsApp বাটন। বুস্টের টাকা খরচ না করেই তাদের নতুন প্রোডাক্টের খবর দিতে পারবেন — এরা আগেই আপনার কাছ থেকে কিনেছে, তাই সাড়াও পাবেন বেশি।

কাস্টমার লিস্ট এক্সপোর্ট করা যায়?

যায়। নাম, ফোন, ঠিকানা, মোট অর্ডার আর মোট টাকাসহ পুরো লিস্ট CSV ফাইলে বের করা যায় (শেষ ৭ দিন, ৩০ দিন বা নিজের পছন্দের তারিখ বেছে নিয়ে) — Excel বা Google Sheets-এ খুলবে।

মাস শেষে বিক্রির হিসাব কি নিজে থেকেই পাওয়া যায়?

মূল হিসাবটা অটোমেটিক — ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের টাকা, ক্যানসেল-রিটার্নের সংখ্যা, গত মাসের তুলনায় কেমন গেল, সব "হিসাব-নিকাশ"-এ দেখা যায়। তবে কুরিয়ার চার্জ বা প্রোডাক্টের কেনা দাম হিসাবে ধরতে চাইলে সেটা নিজে খরচ হিসেবে যোগ করতে হয়।

ওয়েবসাইটের অর্ডার থেকে কি কমিশন কাটা হয়?

না। Bonik AI-এর কোনো প্ল্যানেই অর্ডার থেকে কোনো % কমিশন কাটা হয় না — শুধু ফ্ল্যাট মাসিক ফি, যত ইচ্ছা বিক্রি করুন খরচ একই থাকে।

আজই নিজের ওয়েবসাইটটা দাঁড় করিয়ে ফেলুন

এক মিনিটে ওয়েবসাইট, অর্ডার এলেই সাথে সাথে নোটিফিকেশন, অটো ফ্রড চেক, এক ট্যাপে কুরিয়ার আর মাস শেষের হিসাব — কমিশন ছাড়াই সব এক অ্যাপে। Bonik AI ফ্রি ডাউনলোড করুন।

ফ্রি ডাউনলোড করুন
Bonik AI

লিখেছে: Bonik AI টিম

Bonik AI বাংলাদেশি F-Commerce সেলারদের জন্য অর্ডার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ বানায়। হাজারো সেলারের প্রতিদিনের অর্ডার, কুরিয়ার আর ফ্রড-চেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখা। আমাদের সম্পর্কে জানুন

🚀 আজই শুরু করুন

আপনার F-Commerce বিজনেসকে
পরবর্তী স্তরে নিয়ে যান

হাজার হাজার বাংলাদেশি সেলার ইতিমধ্যে Bonik AI দিয়ে তাদের বিজনেস পরিচালনা করছেন। আজই যোগ দিন এবং পার্থক্যটা নিজে অনুভব করুন।