ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক বুস্ট করতে কোন কার্ড লাগে? বিকাশে কি বুস্ট করা যায়? (২০২৬)

Bonik AI টিম প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ৮ মিনিট পড়া

ফেসবুক বুস্ট করতে গিয়ে "পেমেন্ট মেথড অ্যাড করুন" ধাপে এসে আটকে গেছেন — বাংলাদেশের হাজারো সেলারের গল্প এটাই। সংক্ষেপে উত্তরটা আগে দিয়ে দিই: ফেসবুক বুস্ট করতে লাগে ডুয়াল কারেন্সি কার্ড — অর্থাৎ এমন Visa, Mastercard বা Amex কার্ড, যেটাতে টাকার পাশাপাশি ডলারেও পেমেন্ট করা যায় এবং পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করা আছে। সাধারণ বাংলা টাকার (BDT-only) কার্ড দিয়ে হবে না, কারণ Meta বাংলাদেশি বিজ্ঞাপনদাতাদের বিল করে ডলারে। আর ২০২৬-এর বড় খবর — Meta পরীক্ষামূলকভাবে কিছু অ্যাকাউন্টে বিকাশ পেমেন্ট চালু করেছে, তবে সেটা এখনো সবার জন্য না। নিচে তিনটা রাস্তারই পুরো হিসাব — কোন কার্ড, কীভাবে চালু করবেন, ১ ডলারে আসলে কত টাকা খরচ, আর কার্ড না থাকলে কী করবেন।

এই গাইড লিখেছে Bonik AI টিম — প্রতিদিন যাঁদের অ্যাপে হাজারো বাংলাদেশি সেলারের অর্ডার আর অ্যাড-বাজেটের হিসাব চলে। লেখার প্রতিটি নিয়ম-কানুন ২৮ আগস্ট ২০২৬-এ যাচাই করা অফিসিয়াল সূত্র থেকে: বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইন, বাসস-এ প্রকাশিত অর্থ আইন ২০২৬-এর খবর, Meta-র অফিসিয়াল পেমেন্ট-অপশন পেজ এবং দেশের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট। রেট আর নিয়ম দুটোই বদলায় — বড় সিদ্ধান্তের আগে নিজের ব্যাংকে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।

এক নজরে: ৩টা রাস্তা

রাস্তাকী লাগে১ ডলারের আনুমানিক খরচকার জন্য
নিজের ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ব্যাংকের ডুয়াল কারেন্সি কার্ড + পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট ~১৩০–১৪৩ টাকা (ভ্যাটসহ) নিয়মিত বুস্ট করেন, অ্যাড অ্যাকাউন্টের মালিকানা নিজের কাছে চান
এজেন্সি (বিকাশে পেমেন্ট) শুধু বিকাশ/নগদ — কার্ড, পাসপোর্ট কিছুই না ১৫০–২০০ টাকা (ছোট বাজেটে ২৫০ পর্যন্ত) কার্ড বা পাসপোর্ট নেই, মাঝে মাঝে বুস্ট করেন
Meta-র নিজস্ব বিকাশ অপশন Ads Manager-এ অপশনটা দেখা যাওয়া (সীমিত টেস্ট) এখনো অস্পষ্ট ভাগ্যবান কিছু অ্যাকাউন্ট — নিচে বিস্তারিত

বিকাশ দিয়ে কি সরাসরি বুস্ট করা যায়? (আগস্ট ২০২৬-এর আসল অবস্থা)

২০২৬-এর আগস্টের শুরু থেকে যুগান্তর, জাগো নিউজসহ দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে — কিছু বাংলাদেশি বিজ্ঞাপনদাতার Meta Ads Manager-এ "Add Payment Method" অংশে কার্ডের পাশে বিকাশ অপশন দেখা যাচ্ছে, এবং কয়েকজন সফলভাবে বিকাশ দিয়ে অ্যাড বিলও দিয়েছেন।

তবে তিনটা কথা পরিষ্কার জানা দরকার:

  • এটা পরীক্ষামূলক (টেস্ট) পর্যায়ে — সব অ্যাকাউন্টে অপশনটা নেই। Meta বা বিকাশ কেউই এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি; Meta-র হেল্প সেন্টারেও বাংলাদেশের জন্য বিকাশ তালিকাভুক্ত হয়নি।
  • বিস্তারিত নিয়ম অজানা — কত টাকা পর্যন্ত দেওয়া যাবে, চার্জ কীভাবে কাটবে, ভ্যাট কীভাবে ধরবে — কোনো অফিসিয়াল তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।
  • "বিকাশে বুস্টিং" নামে যা বিক্রি হয়, তার প্রায় সবটাই এজেন্সি সার্ভিস — আপনি এজেন্সিকে বিকাশে টাকা দেন, এজেন্সি তাদের নিজের কার্ডে Meta-কে ডলার দেয়। এটা Meta-র নিজস্ব বিকাশ অপশন নয়।

তাহলে করণীয়? নিজের Ads Manager-এর Payment Settings > Add Payment Method-এ ঢুকে দেখুন বিকাশ অপশন এসেছে কি না। এলে ব্যবহার করতে পারেন — টাকা যাচ্ছে সরাসরি Meta-কে, মাঝখানে কেউ নেই। না এলে অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই; ততদিন নিচের দুই রাস্তাই ভরসা।

কোন কার্ড লাগে — আর "ডুয়াল কারেন্সি" মানে কী

ডেইলি স্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই থেকে Meta বাংলাদেশি বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে সরাসরি লেনদেন করে — বিল হয় ডলারে, আন্তর্জাতিক কার্ডে। তাই কার্ডে দুটো জিনিস থাকতেই হবে:

  1. ডুয়াল কারেন্সি সুবিধা — কার্ডটা টাকা ও ডলার দুই কারেন্সিতেই চলে। ব্যাংকে আবেদনের সময়ই এটা চেয়ে নিতে হয়; সাধারণ ডেবিট কার্ড ডিফল্টে BDT-only থাকে।
  2. পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট — বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করতে পাসপোর্টের বিপরীতে ডলার এনডোর্স করাতে হয়। মানে পাসপোর্ট ছাড়া নিজের কার্ডে বুস্ট করা যায় না — এটাই সবচেয়ে বেশি মানুষের আটকে যাওয়ার জায়গা।

ডেবিট, ক্রেডিট, প্রিপেইড — তিন ধরনের কার্ডেই হয়, শর্ত ওই দুটোই। ২০২৬-এ সেলারদের মধ্যে বেশি ব্যবহৃত কয়েকটা কার্ড:

কার্ডধরনযা জানা দরকার
EBL Aqua Prepaid Mastercardপ্রিপেইডনতুনদের সবচেয়ে জনপ্রিয় — ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই হয়, টাকা ভরে ব্যবহার; পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক
DBBL Nexus (ডুয়াল কারেন্সি)ডেবিটDBBL অ্যাকাউন্ট থাকলে সহজ; কার্ডটা ডুয়াল কারেন্সি ভার্সনে নিতে হবে
City Bank (Visa/Amex)ডেবিট/ক্রেডিটAmex-ও Meta-তে চলে; ক্রেডিট কার্ডে লিমিট বেশি
BRAC Bank Visaডেবিট/ক্রেডিটই-কমার্স ট্রানজেকশন আলাদা করে চালু করিয়ে নিতে হয়
MTB ভার্চুয়াল প্রিপেইডভার্চুয়ালঅ্যাপ থেকেই ইস্যু, বার্ষিক ফি ৫০০ টাকা; এনডোর্সমেন্টের নিয়ম একই
Midland Bank প্রিপেইডপ্রিপেইডপ্রিপেইড ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের আরেকটা সহজ অপশন

মোদ্দা কথা — নির্দিষ্ট কোনো "জাদুর কার্ড" নেই; যেকোনো ব্যাংকের ডুয়াল কারেন্সি কার্ডই চলবে, যদি এনডোর্সমেন্ট আর ই-কমার্স ট্রানজেকশন চালু থাকে। আপনার যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে, আগে সেখানেই খোঁজ নিন।

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট: ধাপে ধাপে

  1. কার্ড ইস্যু করা ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট হলে সেটাই) আর কার্ড নিয়ে যান — অনেক ব্যাংকে এখন অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার থেকেও হয়।
  2. বলুন কত ডলার এনডোর্স করতে চান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে একজন প্রাপ্তবয়স্কের বার্ষিক কোটা বছরে ১২,০০০ ডলার; নিউ এজের রিপোর্ট অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ অনুযায়ী একসাথে কয়েক বছরের এনডোর্সমেন্টও করানো যায়, তবে খরচের সীমা বছরে ১২,০০০ ডলারই থাকে।
  3. এনডোর্সমেন্ট হয়ে গেলে কার্ডে আন্তর্জাতিক/ই-কমার্স ট্রানজেকশন চালু করিয়ে নিন — অনেক ব্যাংকে এটা আলাদা রিকোয়েস্ট, না করালে এনডোর্সমেন্ট থাকার পরও কার্ড ডিক্লাইন হয়।

এরপর Ads Manager-এর Payment Settings-এ কার্ড অ্যাড করুন। কার্ড যোগ করার সময় Meta ১ ডলারের একটা টেস্ট চার্জ কাটে — এটা ভেরিফিকেশনের জন্য, পরে ফেরত আসে; ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

১ ডলারে আসলে কত টাকা যায় — রুটভেদে হিসাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রেটে ডলার এখন ১২২ টাকার ঘরে, কার্ড রেট তার একটু ওপরে (আগস্ট ২০২৬)। কিন্তু বুস্টের ১ ডলারে আপনার খরচ তার চেয়ে বেশি, কারণ ভ্যাট আর সার্ভিস চার্জ যোগ হয়:

রুট১ ডলারের খরচহিসাবটা যেভাবে আসে
নিজের কার্ড~১৩০–১৪৩ টাকাকার্ড রেট ~১২৪ টাকা + ব্যাংকের কাটা ভ্যাট
এজেন্সি (বড় বাজেট)১৫০–২০০ টাকাকার্ড খরচ + এজেন্সির সার্ভিস চার্জ (ডলারপ্রতি ২০–৬০ টাকা)
এজেন্সি (ছোট বাজেট, $১৫-এর নিচে)২৫০ টাকা পর্যন্তছোট অর্ডারে এজেন্সিরা রেট বেশি ধরে

ভ্যাটের বড় খবরটা এখানে: বহু বছর ধরে ফেসবুক-গুগলের বিজ্ঞাপন পেমেন্টে ব্যাংক ১৫% ভ্যাট কেটে আসছিল। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস-এর খবর অনুযায়ী, অর্থ আইন ২০২৬-এ (জুন ২০২৬-এ সংসদে পাস) অনলাইন/সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের ভ্যাট ১৫% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে — ডিজিটাল বিজ্ঞাপনকে বৈধ চ্যানেলে উৎসাহ দিতেই এই ছাড়। ৫% পুরোপুরি কার্যকর হলে ১ ডলারের খরচ ~১৪৩ থেকে ~১৩০ টাকায় নেমে আসার কথা। তবে সব ব্যাংক নতুন হারে কাটা শুরু করেছে কি না, সেটা এখনো পরিষ্কার নয় — বুস্টের আগে নিজের ব্যাংক থেকে জেনে নিন, আর স্টেটমেন্টে কত কাটল মিলিয়ে দেখুন।

আরেকটা কাজের টিপ: ব্যবসার BIN (ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর) থাকলে Ads Manager-এর Payment Settings-এ Tax ID হিসেবে যোগ করে দিন — তাহলে Meta নিজের দিক থেকে বাড়তি ভ্যাট যোগ করে না। ব্যাংকের কাটা ভ্যাট অবশ্য এতে বন্ধ হয় না।

কার্ড নেই? এজেন্সি রুট — সুবিধা আর ঝুঁকি দুটোই জানুন

যাঁদের কার্ড বা পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্য বাস্তব রাস্তা এজেন্সি: আপনি এজেন্সিকে বিকাশ/নগদে টাকা দেন, তারা নিজেদের কার্ড আর অ্যাড অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার পেজের বুস্ট চালায়। এজেন্সিগুলোর প্রকাশ্যে ঘোষণা করা রেট যাচাই করে দেখেছি — ২০২৬-এ সাধারণত ডলারপ্রতি ১৫০–২০০ টাকা, অনেকে সর্বনিম্ন $৫–২০-এর অর্ডার নেয়।

সুবিধা পরিষ্কার — কাগজপত্র ছাড়াই আজই বুস্ট শুরু। কিন্তু ঝুঁকিগুলোও জেনে রাখুন:

  • অ্যাড অ্যাকাউন্টটা আপনার না, এজেন্সির — অ্যাডের হিস্ট্রি, অডিয়েন্স ডেটা, পিক্সেল সব তাদের হাতে। এজেন্সি বদলালে শূন্য থেকে শুরু।
  • রেজাল্টের হিসাব আপনি পুরোটা দেখেন না — কত ডলার আসলে খরচ হলো, রিপোর্ট এজেন্সি যা দেখায় তাই।
  • প্রতারণার ঝুঁকি — অগ্রিম টাকা নিয়ে উধাও হওয়া "বুস্টিং সার্ভিসের" অভিযোগ ফেসবুক গ্রুপগুলোতে নিয়মিত। অচেনা কাউকে বড় অঙ্ক দেওয়ার আগে ছোট অর্ডারে পরখ করুন, রিভিউ দেখুন।

নিয়মিত বুস্ট করলে লম্বা হিসাবে নিজের কার্ডই সাশ্রয়ী ও নিরাপদ — এজেন্সিকে ডলারপ্রতি যে ২০–৬০ টাকা বাড়তি দিচ্ছেন, মাসে $১০০ খরচ করলে সেটাই বছরে ২৪–৭২ হাজার টাকা।

কার্ড ডিক্লাইন হচ্ছে? এই ৬টা কারণ আগে দেখুন

  1. কার্ডটা BDT-only — ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাই চালু নেই। ব্যাংকে ফোন করে নিশ্চিত হন।
  2. এনডোর্সমেন্ট নেই বা কোটা শেষ — পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করা আছে কি না, বছরের ১২,০০০ ডলারের কোটা ফুরিয়েছে কি না।
  3. ই-কমার্স/আন্তর্জাতিক ট্রানজেকশন বন্ধ — অনেক ব্যাংক নিরাপত্তার জন্য এটা ডিফল্টে বন্ধ রাখে; আলাদা করে চালু করাতে হয়।
  4. ডলার ব্যালেন্স নেই — প্রিপেইড/ডেবিট কার্ডে ডলার পার্টে টাকা লোড করা হয়নি।
  5. OTP আসছে না বা 3-D Secure ফেল — ব্যাংকে রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বর ঠিক আছে কি না দেখুন।
  6. ভার্চুয়াল কার্ড Meta নিচ্ছে না — Meta কিছু প্রিপেইড/ভার্চুয়াল কার্ড ঝুঁকিপূর্ণ ধরে বাতিল করে; বিদেশি ভার্চুয়াল কার্ড (যেমন Payoneer) প্রায়ই ডিক্লাইন হয়, আর রেসিডেন্টদের জন্য সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত রুটও না।

পেমেন্ট তো হলো — ডলারটা ঠিক কাস্টমারের কাছে যাবে তো?

কার্ড অ্যাড করা কঠিন ধাপ, কিন্তু আসল খেলা তার পরে। বেশিরভাগ সেলারের ডলার নষ্ট হয় পেমেন্টে না — ভুল টার্গেটিং আর পরিকল্পনা ছাড়া বুস্টে। যে ডলারের পেছনে এত কষ্ট, সেটা যেন ঠিক কাস্টমারের সামনে যায়, সেজন্য Bonik AI-এর AI Facebook Ads গাইড ব্যবহার করতে পারেন। প্রোডাক্ট, টার্গেট কাস্টমার আর দৈনিক বাজেট (টাকায়) দিলে AI আপনাকে বানিয়ে দেয়:

  • দিন-ভিত্তিক ক্যাম্পেইন চেকলিস্ট — Day 1 সেটআপ, Day 2–7 লার্নিং ফেজ, Day 7+ কখন বাজেট বাড়াবেন;
  • আপনার এলাকা ও প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী টার্গেটিং সাজেশন — মানে ঠিক কাস্টমার খুঁজে পাওয়ার কাজটা;
  • বাজেট ভাগের নির্দিষ্ট অঙ্ক — ৫০০ টাকার বাজেট কোথায় কত দেবেন;
  • বাংলাদেশের বেঞ্চমার্ক — CPM, CPC, CTR, cost-per-message কত হলে স্বাভাবিক, কত হলে বন্ধ করবেন;
  • ২টা রেডি-টু-পোস্ট বাংলা অ্যাড কপি — কপি-পেস্ট করলেই চলে;
  • আর প্ল্যানগুলো Meta-র হালনাগাদ Ads Manager (Advantage+, Pixel, Reels) ধরেই বানানো।

ফেসবুকের ২০২৬-এর ক্যাম্পেইন কাঠামো ঘন ঘন বদলায় — নিজে গুগল করে শেখার চেয়ে প্রতিটা ক্যাম্পেইনের আগে আপডেটেড প্ল্যান হাতে পাওয়াটা অনেক কম ঝুঁকির। বুস্টের খরচ আর রেজাল্ট মিলিয়ে হিসাব রাখতেও একই অ্যাপ কাজে দেয়।

তাহলে আপনার জন্য কোনটা?

  • মাসে $২০-এর বেশি বুস্ট করেন → ডুয়াল কারেন্সি কার্ড করিয়ে নিন। পাসপোর্ট না থাকলে সেটাও করে ফেলুন — এক খরচে বহু বছরের সমাধান।
  • মাঝে মাঝে অল্প বুস্ট → পরিচিত, রিভিউওয়ালা এজেন্সি; রেট ১৬০ টাকার আশপাশে পেলে ঠিক আছে।
  • সবার আগে → Ads Manager-এ ঢুকে দেখুন বিকাশ অপশন এসেছে কি না — এলে মাঝের সব ঝামেলাই বাদ।
  • যে রুটেই যান → বুস্ট চালানোর আগে প্ল্যান বানিয়ে নিন — ঠিক টার্গেটিং ছাড়া সস্তার ডলারও লস।

সাধারণ প্রশ্ন

ফেসবুক বুস্ট করতে কোন কার্ড লাগে?

ডুয়াল কারেন্সি Visa, Mastercard বা Amex — ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড যেকোনোটা হলেই চলে। শর্ত দুটো: কার্ডে ডলার কারেন্সি চালু থাকতে হবে আর পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট থাকতে হবে। সাধারণ BDT-only কার্ড দিয়ে হয় না, কারণ Meta বিল করে ডলারে।

বিকাশ দিয়ে কি ফেসবুক বুস্ট করা যায় (facebook boost bkash diye)?

দুইভাবে। এক, আগস্ট ২০২৬ থেকে Meta পরীক্ষামূলকভাবে কিছু অ্যাকাউন্টের Ads Manager-এ সরাসরি বিকাশ পেমেন্ট অপশন দেখাচ্ছে — আপনার অ্যাকাউন্টে অপশনটা এলে ব্যবহার করতে পারবেন, তবে এটা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি এবং Meta আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেয়নি। দুই, এজেন্সিকে বিকাশে টাকা দিয়ে তাদের মাধ্যমে বুস্ট করানো — এটাই এখনকার প্রচলিত "বিকাশে বুস্টিং"।

ডাচ বাংলা (DBBL) কার্ড দিয়ে কি ফেসবুক বুস্ট করা যায়?

যায়, যদি কার্ডটা ডুয়াল কারেন্সি Nexus কার্ড হয়, পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করা থাকে আর ই-কমার্স ট্রানজেকশন চালু থাকে। সাধারণ BDT-only Nexus ডেবিট কার্ডে হবে না — ব্যাংকে গিয়ে কার্ডটা ডুয়াল কারেন্সিতে আপগ্রেড করিয়ে নিতে হবে।

পাসপোর্ট ছাড়া কি ফেসবুক বুস্ট করা যায়?

নিজের কার্ডে না — বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু করতে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট লাগে। পাসপোর্ট না থাকলে দুটো পথ: এজেন্সিকে বিকাশে পেমেন্ট করে বুস্ট করানো, অথবা আপনার Ads Manager-এ Meta-র নতুন বিকাশ অপশন এসেছে কি না দেখা।

ফেসবুক বুস্টে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে?

ফেসবুকের সর্বনিম্ন বাজেট দিনে ১ ডলার। নিজের কার্ডে সেটা ভ্যাটসহ মোটামুটি ১৩০–১৪৩ টাকা; এজেন্সি দিয়ে করালে ডলারপ্রতি ১৫০–২০০ টাকা ধরুন, আর অনেক এজেন্সি সর্বনিম্ন ৫–২০ ডলারের অর্ডার নেয়।

এজেন্সিগুলো ডলার রেট কত নেয়?

২০২৬-এ প্রচলিত রেট ডলারপ্রতি ১৫০–২০০ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ); ১৫ ডলারের কম ছোট অর্ডারে কেউ কেউ ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়। মনে রাখবেন, এজেন্সি রুটে অ্যাড অ্যাকাউন্টের মালিকানা ও ডেটা এজেন্সির কাছে থাকে।

ফেসবুক বিজ্ঞাপনে ভ্যাট কত?

অর্থ আইন ২০২৬-এ অনলাইন/সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের ভ্যাট ১৫% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে (২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে; সূত্র: বাসস)। তবে ব্যাংক পর্যায়ে নতুন হার কার্যকরের চিত্র এখনো পুরো পরিষ্কার নয় — পেমেন্টের পর স্টেটমেন্টে কত ভ্যাট কাটা হলো মিলিয়ে দেখুন। ব্যবসার BIN থাকলে Ads Manager-এ Tax ID হিসেবে যোগ করলে Meta-র দিক থেকে বাড়তি ভ্যাট যোগ হয় না।

বুস্ট করলেই কি সেল হয়?

না — বুস্ট মানুষের সামনে পোস্ট নিয়ে যায়, কিন্তু সেল আসে ঠিক টার্গেটিং, ঠিক অ্যাড কপি আর ঠিক বাজেট ভাগ থেকে। এলোমেলো বুস্টে ডলার খরচ হয়, রেজাল্ট আসে না। বুস্টের আগে প্রোডাক্ট-এলাকা-বাজেট ধরে একটা পরিকল্পনা বানিয়ে নিন — Bonik AI-এর AI Facebook Ads গাইড এই কাজটাই করে দেয়: দিন-ভিত্তিক চেকলিস্ট, টার্গেটিং সাজেশন আর রেডি বাংলা অ্যাড কপিসহ।

বুস্টের প্রতিটা ডলার কাজে লাগান — AI-এর বানানো অ্যাড প্ল্যান দিয়ে

প্রোডাক্ট, এলাকা আর বাজেট দিন — Bonik AI বানিয়ে দেবে দিন-ভিত্তিক ক্যাম্পেইন প্ল্যান, টার্গেটিং সাজেশন আর রেডি বাংলা অ্যাড কপি। সাথে অর্ডার, কুরিয়ার, ফ্রড চেকসহ ১৫+ টুল এক অ্যাপে।

ফ্রি ডাউনলোড করুন
Bonik AI

লিখেছে: Bonik AI টিম

Bonik AI বাংলাদেশি F-Commerce সেলারদের জন্য অর্ডার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ বানায়। হাজারো সেলারের প্রতিদিনের অর্ডার, কুরিয়ার আর ফ্রড-চেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখা। আমাদের সম্পর্কে জানুন

🚀 আজই শুরু করুন

আপনার F-Commerce বিজনেসকে
পরবর্তী স্তরে নিয়ে যান

হাজার হাজার বাংলাদেশি সেলার ইতিমধ্যে Bonik AI দিয়ে তাদের বিজনেস পরিচালনা করছেন। আজই যোগ দিন এবং পার্থক্যটা নিজে অনুভব করুন।