ব্যবসা শুরু

ঢাকার পাইকারি বাজার গাইড — কোথায় কী পাওয়া যায়, কোন দিন বন্ধ, কীভাবে দরদাম করবেন (২০২৬)

Bonik AI টিম প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ মিনিট পড়া

প্রথমবার ইসলামপুরে ঢুকে বেশিরভাগ নতুন সেলারের যা হয়: গলির পর গলি, শত শত দোকান, সবাই ব্যস্ত, কেউ দাম বলে না, কেউ বলে "কয় পিস নিবেন?" — আর আপনি বুঝতে পারছেন না কোন গলিতে থ্রি-পিস, কোন গলিতে থান কাপড়। দুই ঘণ্টা ঘুরে, একটা দোকান থেকে হুট করে ১২ পিস কিনে, রিকশায় ফেরার পথে মনে হয় "পাশের দোকানে তো আরও কমে ছিল"। ঢাকার পাইকারি বাজার নতুন সেলারের জন্য সোনার খনি, কিন্তু ম্যাপ ছাড়া ঢুকলে খনিতে হারিয়ে যেতে হয়। এই লেখাটা সেই ম্যাপ।

সংক্ষেপে: ঢাকায় ক্যাটাগরি ধরে আলাদা পাইকারি এলাকা — কাপড় ও থ্রি-পিস ইসলামপুরে (থান কাপড় ৳৫০–২০০/গজ), রেডিমেড পোশাক ও জিন্স কেরানীগঞ্জে (দেশের জিন্সের ৮৫% এখান থেকে), মেয়েদের জামা-বেবি ড্রেস গাউছিয়ায়, কসমেটিকস-ইমিটেশন গয়না-ব্যাগ-জুতা-খেলনা চকবাজারে, জুতার সবচেয়ে বড় পাইকারি গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে, মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ মোতালেব প্লাজা ও গুলিস্তান পাতাল মার্কেটে। সবচেয়ে বড় ভুল বন্ধের দিনে যাওয়া: পুরান ঢাকা (ইসলামপুর, চকবাজার, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া) শুক্রবার পুরো ও শনিবার আধা বন্ধ; নিউমার্কেট-গাউছিয়া-মোতালেব প্লাজা মঙ্গলবার বন্ধ। নিচে ক্যাটাগরি ধরে কোথায় কী, বন্ধের দিনের টেবিল, প্রথমবার যাওয়ার নিয়ম আর দরদামের কৌশল।

Bonik AI টিমের লেখা — আমাদের ট্রেন্ডিং ও সোর্সিং ফিচারে প্রতি মাসে সেলারদের পাইকারি বাজারের ঠিকানা-দাম দিতে হয়, তাই এই তালিকাটা আমরা নিয়মিত মেলাই। বাজারের অবস্থান ও পণ্য সংবাদমাধ্যম (প্রথম আলো, জাগো নিউজ, ডিএমপি নিউজ) ও ২০২৫–২৬-এর বাজার-গাইড থেকে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যাচাই করা। দাম সিজনে বদলায়, বন্ধের দিন মাঝে মাঝে বদলায় — বড় লট কিনতে যাওয়ার আগে একটা দোকানে ফোন করে নেবেন।

প্রথমে বন্ধের দিন — এটা না জেনে গেলে দিনটাই নষ্ট

ঢাকায় এলাকা ধরে সপ্তাহে একদিন পুরো আর পরের দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ থাকে (যানজট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নিয়মে)। পাইকারি এলাকাগুলোর হিসাব:

এলাকা / মার্কেটপুরো বন্ধআধা বন্ধ (দুপুর ২টা পর্যন্ত)
ইসলামপুর, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, গুলিস্তান হকার্স, ফুলবাড়িয়া, আজিমপুর, শ্যামবাজার (পুরান ঢাকা)শুক্রবারশনিবার
বঙ্গবাজারশুক্রবার—
নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নীলক্ষেত, এলিফ্যান্ট রোড, মোতালেব প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা (হাতিরপুল, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার)মঙ্গলবারবুধবার
মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মগবাজার, শান্তিনগরবৃহস্পতিবারশুক্রবার
বসুন্ধরা, বারিধারা, খিলক্ষেত, উত্তরা-এয়ারপোর্ট রোড (যমুনা ফিউচার পার্ক)বুধবারবৃহস্পতিবার
রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদরবিবারসোমবার

কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টপল্লী পুরান ঢাকার নিয়মে চলে না; সেখানে শুক্রবার অনেক দোকান খোলা, তবে সিজনভেদে বদলায় — যাওয়ার আগে ফোন। আর যেকোনো পাইকারি বাজারে সকাল ১০টা–দুপুর ১টা সবচেয়ে ভালো সময়: দোকানদার ফ্রি, মাল সাজানো, দরদামে সময় দেয়। বিকেলে খুচরা ভিড়, দোকানি ব্যস্ত।

ক্যাটাগরি ধরে: কোথায় কী

১. থ্রি-পিস, শাড়ি, থান কাপড় — ইসলামপুর

দেশের সবচেয়ে বড় কাপড়ের পাইকারি বাজার, সদরঘাটের কাছে। দেশি-বিদেশি থান কাপড়, থ্রি-পিস, শাড়ি, লুঙ্গি, বাচ্চাদের পোশাক, বিছানার চাদর, পর্দার কাপড় — আর পোশাক বানানোর বোতাম, জিপার, ইলাস্টিক পর্যন্ত। থান কাপড় গজপ্রতি মোটামুটি ৳৫০–২০০। ইসলামপুরের একটা বড় সুবিধা: খুচরা কিনলেও অনেক দোকান পাইকারি দামের কাছাকাছি রাখে, তাই ২–৩ পিস দিয়ে টেস্ট করা যায়। কাপড়ের মান বুঝতে হলে হাতে ধরে দেখতে হয় — অনলাইনে ছবি দেখে ইসলামপুর থেকে কেনা ঝুঁকির।

২. রেডিমেড পোশাক, জিন্স, পাঞ্জাবি — কেরানীগঞ্জ

বুড়িগঙ্গার ওপারে আগানগর, পূর্ব আগানগর, কালীগঞ্জ, জিঞ্জিরা, খেজুরবাগ জুড়ে দেশের সবচেয়ে বড় দেশি গার্মেন্টস পল্লী — দেশের জিন্সের চাহিদার প্রায় ৮৫% এখান থেকে। ২০২৫–২৬-এর সংবাদ-রিপোর্টে পাইকারি দাম: জিন্স প্যান্ট ৳৩৫০–৬০০, পাঞ্জাবি ৳৪০০–১,১০০, শার্ট ৳৭০০–১,১০০ (মানভেদে)। শীতের মাল অক্টোবর থেকে, ঈদের মাল রোজার এক-দেড় মাস আগে থেকে ওঠে। এখানে ডজন ধরে কেনা স্বাভাবিক; একই ডিজাইনে সাইজ মিক্স (M/L/XL) চাইলে বলতে হয়। গুলিস্তান থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে রিকশা/লেগুনা।

৩. মেয়েদের জামা, বেবি ড্রেস, রেডিমেড থ্রি-পিস — গাউছিয়া ও নিউমার্কেট

গাউছিয়া মার্কেট (নিউমার্কেটের উল্টো পাশে) মেয়েদের রেডিমেড জামা, থ্রি-পিস আর বেবি ড্রেসের বড় পাইকারি কেন্দ্র; রোজায় দেশের যাকাতের কাপড়ের বড় অংশ এখান থেকেই যায়। পাশের চাঁদনী চকে বিয়ের শাড়ি, বেনারসি, লেহেঙ্গা, জামদানি — বিয়ের মৌসুমে (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে ব্যস্ত। মঙ্গলবার বন্ধ।

৪. কসমেটিকস, ইমিটেশন গয়না, ব্যাগ, জুতা, খেলনা — চকবাজার

চকবাজার এক এলাকা না, কয়েকটা টাওয়ার আর গলির সমষ্টি — কোনটায় কী, জানা না থাকলে দিন শেষ:

কী চানকোথায়
কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার, ইমিটেশন জুয়েলারিসাব্বির মার্কেট, চান সর্দার কামাল টাওয়ার
টি-শার্ট, জিন্স, পোশাকের অ্যাক্সেসরিজমমতাজ মার্কেট
ব্যাগ, জুতাসোলেমান টাওয়ার, মদিনা আশিক টাওয়ার, সামসুল হক টাওয়ার
খেলনা, স্টেশনারি, গিফট আইটেমবিসমিল্লাহ টাওয়ার, চক মোগলটুলি, ফুলবাড়িয়া
মসলা, মুদি, খাবারের কাঁচামালমৌলভীবাজার, বেগমবাজার

কসমেটিকসে একটা সতর্কতা: এখানে অরিজিনাল, "রিফিল" আর নকল পাশাপাশি বিক্রি হয়; ব্যাচ কোড, মেয়াদ আর সিল দেখে নিন, কারণ নকল প্রোডাক্টে পেজের রিভিউ যায় আর Meta-র পলিসিতে অ্যাডও আটকায়। শুক্রবার বন্ধ।

৫. জুতা, স্যান্ডেল — গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া

গুলিস্তান ফ্লাইওভারের পাশে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১ আর তার উল্টো পাশের ঢাকা ট্রেড সেন্টার মিলে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি জুতার বাজার — সারা দেশের খুচরা দোকানিরা এখান থেকেই নেন। দেশি-বিদেশি দুটোই, নিচতলায় কাপড়ের খুচরা দোকানও। জুতায় সাইজ-মিক্স জরুরি: এক ডিজাইনে ৩৬–৪১ সেট নিতে বলুন, নইলে দুই সাইজ পড়ে থাকবে। শুক্রবার পুরো, শনিবার আধা বন্ধ।

৬. বাচ্চাদের পোশাক — গুলিস্তান, ঢাকা ট্রেড সেন্টার (আন্ডারগ্রাউন্ড), গাউছিয়া

ঢাকা ট্রেড সেন্টারের আন্ডারগ্রাউন্ডে ০–১২ বছরের বাচ্চাদের সব ধরনের পণ্য; গুলিস্তানে পাইকারিতে গেঞ্জি ৳১২০-এর কাছাকাছি, শার্ট ৳২০০, মেয়েশিশুর জামা ৳২০০–১,০০০ (সংবাদ-রিপোর্ট, মানভেদে)। বাচ্চাদের পোশাক অনলাইনে ভালো চলে কারণ মা-বাবা বারবার কেনেন — রিপিট কাস্টমারের ক্যাটাগরি।

৭. মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ, গ্যাজেট — মোতালেব প্লাজা ও গুলিস্তান পাতাল মার্কেট

হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজা মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ ও সার্ভিসিংয়ের কেন্দ্র; চতুর্থ তলায় কভার, চার্জার, ইয়ারফোন, ডিসপ্লে — সব পাইকারি রেটে। গুলিস্তান পাতাল মার্কেটে মোবাইল, কম্পিউটার পার্টস, ইলেকট্রনিকস। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে ঘড়ি, ব্যাগ-লাগেজ, চশমা, ছোট ইলেকট্রনিকস। গ্যাজেটে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ওয়ারেন্টি: কোন দোকান রিপ্লেসমেন্ট দেয় জেনে কিনুন, কারণ অনলাইনে গ্যাজেটের রিটার্ন হার সবচেয়ে বেশি। মোতালেব প্লাজা মঙ্গলবার বন্ধ, গুলিস্তান শুক্রবার।

৮. বঙ্গবাজার — এখন কেমন

এপ্রিল ২০২৩-এর আগুনে বঙ্গবাজারের ২,৯৩১টি দোকান পুড়ে যায়; ২০২৬-এও ব্যবসা চলছে অস্থায়ী কাঠামো ও ফুটপাতের দোকানে, নতুন মার্কেট নির্মাণাধীন। রেডিমেড গার্মেন্টস ও এক্সপোর্ট-রিজেক্ট পোশাকের জন্য এখনো যাওয়া যায়, তবে বড় লটের জন্য কেরানীগঞ্জ এখন বেশি নির্ভরযোগ্য। শুক্রবার বন্ধ, শনি–বৃহস্পতি সকাল ১০টা–রাত ৯টা।

৯. খাবারের কাঁচামাল — মৌলভীবাজার, শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার

হোমমেড ফুড, আচার, মসলা বিক্রি করলে মসলা-মুদির পাইকারি মৌলভীবাজার-বেগমবাজারে, ফল-সবজি শ্যামবাজার (দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার) ও কারওয়ান বাজারে — দুটোই ভোররাত থেকে সকাল ৮টার মধ্যে সবচেয়ে সচল।

প্রথমবার যাওয়ার আগে — ৭টা নিয়ম

  1. প্রথম দিন কিনবেন না, শুধু ঘুরবেন। ৪–৫টা দোকানে একই প্রোডাক্টের দাম আর ন্যূনতম লট জিজ্ঞেস করুন, নোটে লিখুন। দ্বিতীয় দিন কিনুন। চকবাজারের নিজস্ব গাইডেও এই পরামর্শ — "অন্তত ৪–৫টি দোকান ঘুরে ধারণা নিন"।
  2. কার কাছে বিক্রি করবেন, আগে ঠিক করুন। পাইকারি বাজারে সুন্দর ডিজাইন দেখে দরকারের বেশি কেনা নতুন সেলারের এক নম্বর লস। লিস্ট নিয়ে যান, লিস্টের বাইরে না।
  3. প্রথম লট ছোট: ৫–১০ হাজার টাকা, ৫–১০টা প্রোডাক্ট, ২–৩ পিস করে। কী চলে বুঝে পরের সপ্তাহে বড় লট।
  4. তিনটা প্রশ্ন প্রতিটা দোকানে: ন্যূনতম কত পিস? এক ডিজাইনে সাইজ/রং মিক্স দেওয়া যাবে? আজকের দাম, নাকি লট বাড়ালে কমবে?
  5. দোকানের কার্ড আর WhatsApp নম্বর নিন। দ্বিতীয়বার থেকে অনেক দোকান ছবি দেখে অর্ডার নেয় আর কুরিয়ারে পাঠায় — ঢাকার বাইরের সেলাররা এভাবেই চালান।
  6. নগদ টাকা, ছোট নোটে; ফোন সামনের পকেটে। গুলিস্তান-চকবাজারের ভিড়ে পকেটমারের অভিযোগ নিয়মিত। বড় অঙ্ক হলে bKash-এ দেওয়া যায় কি না জিজ্ঞেস করুন।
  7. মাল বহনের ব্যবস্থা: বড় লটে বাজারের ভ্যান-রিকশা আছে (দরদাম করে), বা কুরিয়ারের পিকআপ। ইসলামপুর-চকবাজারের গলিতে গাড়ি ঢোকে না — এটা ধরে প্ল্যান করুন।

দরদামের কৌশল — যেটা কাজ করে

  • "পাইকারি দাম কত" নয়, "১২ পিস নিলে কত" জিজ্ঞেস করুন — সংখ্যা বললে দোকানি পাইকার ধরে, নইলে খুচরা।
  • প্রথম দাম থেকে ১৫–২৫% নিচে বলুন, তারপর মাঝামাঝি। ৫০% নিচে বললে দোকানি কথা বন্ধ করে দেয়।
  • ঘুরে দেখা দামটা বলুন: "পাশের গলিতে ৪২০ বলল" — সত্যি হলে কাজ করে, মিথ্যা হলে ধরা পড়ে।
  • রিপিট কাস্টমার হন — একই দোকান থেকে তিনবার কিনলে চতুর্থবার দাম নিজে থেকেই কমে, আর নতুন মাল এলে আগে ছবি পাঠায়। পাইকারি বাজারে সম্পর্কটাই আসল ছাড়।
  • দাম কমাতে গিয়ে মান কমাবেন না — ৪২০-এর জিন্স ৩৫০-এ পেলে সেটা প্রায়ই অন্য গ্রেড। প্রোডাক্ট খারাপ হলে অনলাইনে রিটার্ন আসে, সেই লস ৭০ টাকার ছাড়ের চেয়ে অনেক বেশি (রিটার্নের হিসাব এখানে)।

বাজার থেকে ফিরে — যেটা বেশিরভাগ সেলার ভুলে যায়

কেনা দামটা নোট করলেই হিসাব শেষ না। প্রতিটা প্রোডাক্টে যোগ করুন রিকশা/ভ্যান ভাড়া, প্যাকেজিং, আর সম্ভাব্য রিটার্ন লস — তারপর বিক্রয়মূল্য। ৭০০ টাকার থ্রি-পিসের আসল খরচ কীভাবে ৮১৫ হয়, সেই টেবিল পেজে ব্যবসা শুরুর গাইডের ধাপ ৪-এ; কেনা দাম আর খরচ দিলে Bonik AI-এর AI প্রাইসিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বাজার ধরে দাম সাজেস্ট করে। আর বাজার থেকে ফিরেই জানালার পাশে ছবি তুলুন — বাজারের হলুদ আলোর ছবি পোস্টে চলে না (ছবির নিয়ম)।

ঢাকার বাইরে থাকলে

প্রতিটা জেলায় নিজস্ব পাইকারি এলাকা আছে (চট্টগ্রামে রিয়াজউদ্দিন বাজার-টেরিবাজার, সিলেটে বন্দরবাজার, খুলনায় বড়বাজার), কিন্তু দাম আর ভ্যারাইটিতে ঢাকা এগিয়ে। বাস্তব সমাধান: মাসে একবার ঢাকায় এসে পরিচিত দোকান বানান, বাকি সময় WhatsApp-এ ছবি দেখে অর্ডার আর কুরিয়ারে আনান — এখন অনেক পাইকার ১০–১২ পিসের ছোট লটও কুরিয়ারে পাঠায়। আর কোন প্রোডাক্ট এই মুহূর্তে চলছে সেটা পাইকার বলবে না; সেজন্য Bonik AI-এর ট্রেন্ডিং ও সোর্সিং ড্রপ মাসে একবার আপনার ক্যাটাগরির চলতি প্রোডাক্ট, পাইকারি বাজারের নাম-ঠিকানা আর কেনা-বেচার দামের হিসাব দেয় — এই লেখার বাজারগুলোই, কিন্তু "এই মাসে কোনটা" সেই উত্তরসহ।

শেষ কথা

পাইকারি বাজার ভয়ের জায়গা না, শুধু প্রথমবার ম্যাপ লাগে। উপরের টেবিল দুটো (কোথায় কী, কোন দিন বন্ধ) ফোনে সেভ রাখুন, প্রথম দিন শুধু ঘুরে দাম লিখুন, দ্বিতীয় দিন ছোট লট নিয়ে ফিরুন। তৃতীয় সপ্তাহে দেখবেন দোকানদার নাম ধরে ডাকছে আর নতুন মাল এলে আগে আপনাকে ছবি পাঠাচ্ছে — সেদিন থেকে আপনার সোর্সিং খরচ কমতে শুরু করবে।

তথ্যসূত্র

সাধারণ প্রশ্ন

ঢাকায় থ্রি-পিস ও শাড়ির পাইকারি বাজার কোথায়?

ইসলামপুর (সদরঘাটের কাছে) — দেশের সবচেয়ে বড় কাপড়ের পাইকারি বাজার: থান কাপড় গজপ্রতি ৳৫০–২০০, থ্রি-পিস, শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, পর্দা। রেডিমেড মেয়েদের জামা ও থ্রি-পিসের জন্য গাউছিয়া, বিয়ের শাড়ি-লেহেঙ্গার জন্য চাঁদনী চক। ইসলামপুর শুক্রবার বন্ধ, গাউছিয়া মঙ্গলবার।

ঢাকার পাইকারি মার্কেট কোন দিন বন্ধ থাকে?

এলাকা ধরে আলাদা: পুরান ঢাকা (ইসলামপুর, চকবাজার, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবাজার) শুক্রবার পুরো ও শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত; নিউমার্কেট, গাউছিয়া, নীলক্ষেত, মোতালেব প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি মঙ্গলবার পুরো ও বুধবার আধা; মিরপুর-মোহাম্মদপুর বৃহস্পতিবার; বসুন্ধরা-উত্তরা বুধবার; রামপুরা-মালিবাগ-যাত্রাবাড়ী রবিবার। নিয়ম মাঝে মাঝে বদলায়, বড় লটের আগে ফোন করে নিন।

কেরানীগঞ্জে জিন্স-পাঞ্জাবির পাইকারি দাম কত?

২০২৫–২৬-এর সংবাদ-রিপোর্ট অনুযায়ী মানভেদে জিন্স প্যান্ট ৳৩৫০–৬০০, পাঞ্জাবি ৳৪০০–১,১০০, শার্ট ৳৭০০–১,১০০। আগানগর, কালীগঞ্জ, জিঞ্জিরা এলাকায় দেশের জিন্সের ৮৫% তৈরি হয়। ডজন ধরে কেনা স্বাভাবিক, সাইজ মিক্স চাইলে বলতে হয়।

কসমেটিকস আর ইমিটেশন গয়নার পাইকারি কোথায়?

চকবাজারের সাব্বির মার্কেট ও চান সর্দার কামাল টাওয়ারে — দেশি-বিদেশি কসমেটিকস আর ইমিটেশন জুয়েলারি পাইকারি দামে। ব্যাচ কোড, মেয়াদ ও সিল দেখে কিনুন; নকল প্রোডাক্টে পেজের রিভিউ যায় আর Meta-র পলিসিতে অ্যাড আটকায়। চকবাজার শুক্রবার বন্ধ।

মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ পাইকারি কোথায় পাব?

হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজা (চতুর্থ তলায় কভার, চার্জার, ইয়ারফোন, ডিসপ্লে পাইকারি) আর গুলিস্তান পাতাল মার্কেট (মোবাইল, কম্পিউটার পার্টস)। গ্যাজেটে ওয়ারেন্টি/রিপ্লেসমেন্ট শর্ত জেনে কিনুন — অনলাইনে গ্যাজেটের রিটার্ন সবচেয়ে বেশি। মোতালেব প্লাজা মঙ্গলবার, গুলিস্তান শুক্রবার বন্ধ।

পাইকারি বাজারে ন্যূনতম কত পিস কিনতে হয়?

দোকান ও পণ্যভেদে আলাদা — রেডিমেড পোশাক ও জুতায় সাধারণত ডজন বা সাইজ-সেট, ইসলামপুরে অনেক দোকান খুচরা কিনলেও পাইকারির কাছাকাছি দাম রাখে। প্রতিটা দোকানে তিনটা প্রশ্ন: ন্যূনতম কত পিস, এক ডিজাইনে সাইজ/রং মিক্স হবে কি না, লট বাড়ালে দাম কমবে কি না।

প্রথমবার পাইকারি বাজারে গেলে কী করব?

প্রথম দিন কিনবেন না — ৪–৫টা দোকানে দাম ও ন্যূনতম লট জিজ্ঞেস করে নোট করুন, দোকানের কার্ড ও WhatsApp নিন। দ্বিতীয় দিন ৫–১০ হাজার টাকার ছোট লট, ৫–১০টা প্রোডাক্ট, ২–৩ পিস করে। সকাল ১০টা–দুপুর ১টায় যান, নগদ ছোট নোটে, ফোন সামনের পকেটে, কার কাছে বিক্রি করবেন সেই লিস্ট নিয়ে যান।

ঢাকার বাইরে থেকে কীভাবে পাইকারি কিনব?

মাসে একবার ঢাকায় এসে ২–৩টা দোকানে পরিচিত হন, তারপর WhatsApp-এ ছবি দেখে অর্ডার আর কুরিয়ারে আনান — অনেক পাইকার এখন ১০–১২ পিসের ছোট লটও পাঠায়। কোন প্রোডাক্ট এই মাসে চলছে জানতে Bonik AI-এর ট্রেন্ডিং ও সোর্সিং ড্রপে ক্যাটাগরি ধরে পণ্য, বাজারের ঠিকানা ও দাম আসে।

কোন বাজারে যাবেন জানলেন — কোন প্রোডাক্ট আনবেন, সেটা AI বলুক

Bonik AI-এর ট্রেন্ডিং ও সোর্সিং ড্রপে মাসে একবার আপনার ক্যাটাগরির চলতি প্রোডাক্ট, পাইকারি বাজারের নাম-ঠিকানা আর কেনা-বেচার দাম। তারপর AI প্রাইসিংয়ে দাম ঠিক করে, ছবি তুলে, পোস্ট দিয়ে অর্ডার নিন — এক অ্যাপে।

ফ্রি ডাউনলোড করুন
Bonik AI

লিখেছে: Bonik AI টিম

Bonik AI বাংলাদেশি F-Commerce সেলারদের জন্য অর্ডার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ বানায়। হাজারো সেলারের প্রতিদিনের অর্ডার, কুরিয়ার আর ফ্রড-চেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখা। আমাদের সম্পর্কে জানুন

🚀 আজই শুরু করুন

আপনার F-Commerce বিজনেসকে
পরবর্তী স্তরে নিয়ে যান

হাজার হাজার বাংলাদেশি সেলার ইতিমধ্যে Bonik AI দিয়ে তাদের বিজনেস পরিচালনা করছেন। আজই যোগ দিন এবং পার্থক্যটা নিজে অনুভব করুন।